চলতি বছরের শেষের দিকে দেশটিতে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে দীর্ঘস্থায়ী খরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে খাদ্য সংকট এড়াতে দেশটির সরকার কৃষকদের প্রচলিত চাষাবাদের নিয়ম পরিবর্তনের তাগিদ দিয়েছে। খবর রয়টার্স।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এল নিনো আবহাওয়া চক্রের কারণে সাধারণত এশিয়াজুড়ে তীব্র গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া তৈরি হয় এবং অনাবৃষ্টি দেখা দেয়। ইন্দোনেশিয়ায় সাধারণত মে-আগস্ট পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুম থাকে। তবে এবার তা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি স্থায়ী হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ পূর্বাভাস দেশটির কোটি কোটি মানুষের প্রধান খাদ্য চালের জোগানের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পশ্চিম জাভার চিরেবন অঞ্চলের কৃষকরা জানান, যুগ যুগ ধরে তারা নির্দিষ্ট ঋতুচক্র মেনে চাষাবাদ ও ফসল ঘরে তোলার কাজ করে আসছেন। তবে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্রতার কারণে এখন আর প্রকৃতির এ স্বাভাবিক নিয়মগুলোর ওপর নির্ভর করা যাচ্ছে না। এবারের এল নিনো ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ নিতে পারে এমন আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও কৃষকরা হাল না ছেড়ে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
এ সংকট মোকাবেলায় ইন্দোনেশিয়ার কৃষিমন্ত্রী আমরান সুলাইমান আঞ্চলিক গভর্নরদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোয় সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এবং কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসনকে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পানির ঘাটতি সামাল দিতে খরাসহিষ্ণু বিশেষ জাতের ধানের বীজ ব্যবহারের ওপর জোর দিচ্ছে দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়।
সরকারি নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগের ফসল কাটার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে কৃষকদের আবারো জমিতে বীজ রোপণের অনুরোধ করা হচ্ছে। সাধারণত জমি প্রস্তুত করার জন্য কৃষকরা ২৫ দিন সময় নিলেও এবার তা কমিয়ে আনা হয়েছে। মাটির নিচে থাকা অবশিষ্ট পানি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই যেন তা ব্যবহার করা যায়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, জাভাসহ দেশটির সবচেয়ে জনবহুল বেশ কয়েকটি দ্বীপে টানা ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে কোনো বৃষ্টি হয়নি। এমনকি জুনেও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা মাঝারি থেকে নিম্নস্তরে থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে চাষের জমি কমে গেছে। ফলে গত বছরের তুলনায় এবার জানুয়ারি-জুলাইয়ের মধ্যে চাল উৎপাদন দশমিক ৩৫ শতাংশ কম হতে পারে বলে ধারণা করছে দেশটির পরিসংখ্যান ব্যুরো। তবে লোকসান এড়াতে অনেক কৃষক ধানের পরিবর্তে কম পানি লাগে এমন বিকল্প ফসল, যেমন মুগডাল চাষের দিকে ঝুঁকছেন।